Thursday, April 3, 2025
Google search engine
HomeReligiousDua and Surahসূরা আল-ইখলাসের অর্থসহ বাংলা অনুবাদ, শানে নুযূল ও ফযিলত । Surah Al-Ikhlas

সূরা আল-ইখলাসের অর্থসহ বাংলা অনুবাদ, শানে নুযূল ও ফযিলত । Surah Al-Ikhlas

সূরা আল-ইখলাসের আয়াতসমূহঃ

সূরা আল-ইখলাস- কু’ল হুয়া ল্লা-হু আহাদ , আল্লা-হু স্‌সামাদ , লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইয়ুলাদ , ওয়া লাম ইয়াকু ল-লাহু কুফুওয়ান আহাদ!

সূরা আল-ইখলাসের অর্থ-সমূহঃ

বলো, তিনিই আল্লাহ্‌, অদ্বিতীয়! আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি। তার সমকক্ষ আর কিছুই নেই!

সূরা আল ইখলাস এর অর্থ হল নিষ্ঠা‎, একেশ্ব‌রবাদ, বিশুদ্ধ। সূরা আল ইখলাস পবিত্র কুরআনের ১১২ তম সূরা। আয়াত সংখ্যা ৪, রুকু ১টি।  সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয় তাই এই সূরা মাক্কী সূরার শ্রেণীভুক্ত। এই সূরাকে ক্বুল হু আল্লাহু আহাদ হিসাবেও উল্লেখ করা হয়ে থাকে। সূরাটি ছোট হলেও এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক অনেক বেশি। এই সূরাটি হল পবিত্র কুরআন শরীফের তিন ভাগের এক ভাগ।  অর্থাৎ কেউ যদি তিন বার সূরা ইখলাস পাঠ করে তাহলে ১ বার কুরআন খতমের সাওয়াব পাবে। সুবহানাল্লাহ। কেন এই সূরাটি এতো ফজিলতপূর্ণ? তার কারণ হল এই সূরাতে আল্লাহ তার নিজের পরিচয় দিয়েছেন এবং তার পাশাপাশি আল্লাহর বৈশিষ্ট্যের কথা বলা হয়েছে। ছোট এই সূরা কম বেশি প্রত্যেক মুসলিম ভাই ও বোনদের মুখস্ত আছে কিন্তু আমরা অনেকেই এর অর্থ ও গুরুত্ব তেমন জানি না।  আমার এই পর্বে সূরা আল ইখলাস এর অর্থ ও এর ফজিলত এবং এর শানে নুযুল সম্পর্কে জানব ইনশাআল্লাহ।

সূরা আল-ইখলাসের শানে নুযুল

একবার কিছু মুশরিকরা নবী মুহাম্মদ (সঃ) এর কাছে আল্লাহর বংশ পরিচয় জানতে চাইলো। আল্লাহ সম্পর্কে তারা নানাধরণের আপত্তিকর কথা বলতে লাগলো। কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে যে, তারা জানতে চাইলো আল্লাহ কিসের তৈরী? স্বর্ণ-রুপা নাকি অন্যকিছুর। তখন সূরা ইখলাস নাজিল করে আল্লাহ নিজেই এর উত্তর দিলেন।

সূরা আল-ইখলাসের ফজিলত

১. হযরত আবু হোরায়ারা (রাঃ) বর্ণনা করেন, একবার রসুলুল্লাহ (সাঃ) বললেনঃ তোমরা সবাই দলবদ্ধ হয়ে যাও আমি তোমাদেকে পবিত্র কোরানের এক তৃতীয়াংশ শুনাবো। তারপর সবাই একত্রিত হল এবং রসুলুল্লাহ (সাঃ) সূরা ইখলাস পাঠ করে শুনালেন। এরপর বললেন রা ইখলাস পবিত্র কোরানের এক তৃতীয়াংশ।  (মুসলিম, তিরমিযী)

২. আবু দাউদ, তিরমিযী ও নাসায়ীর এক দীর্ঘ রেওয়ায়েতে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সূরা ইখলাস, ফালাক্ব ও নাস পাঠ করে তা তাকে বিপদ-আপদ ও শয়তানের খারাপই থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে যথেষ্ট হয়। – (ইবনে-কাসীর)

৩. ওকবা ইবনে আমের (রাঃ)-এর রেওয়ায়েতে রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ আমি তোমাদেরকে এমন তিনটি সূরা বলছি, যা তওরাত, ইঞ্জীল, যবুর ও কোরআনসহ সব কিতাবেই রয়েছে। রাতে তোমরা ততক্ষণ নিদ্রা যেও না, যতক্ষণ সূরা এখলাস, ফালাক ও নাস না পাঠ কর। ওকবা (রাঃ) বলেনঃ সেদিন থেকে আমি কখনও এই আমল ছাড়িনি। – (ইবনে কাসীর)

৪. যে ব্যক্তি অধিক পরিমানে সূরা ইখলাস পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব করে দিবেন।

৫. যে ব্যক্তি সূরা ইখলাস অধিক পরিমাণ পাঠ করবে আল্লাহ তায়ালা তাঁর লাশ বহন করার জন্য ফেরেশতা হয়রত জিবরাঈল (আঃ) এর সাথে সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রেরন করবেন। সেই ফেরেশতারা তাঁর লাশ বহন করবে এবং জানাজায় শরিক হবে।

৬. রাসুল (সাঃ) এর সময় একবার এক এলাকার একজন ইমাম সাহেবের নামে বিচার আসলো। বিচারের দাবী ছিল যে সেই সাহাবী প্রতি ওয়াক্ত নামাজে শুধু সূরা ইখলাস পড়ত। এই প্রসঙ্গে সেই সাহাবীকে তিনি জিজ্ঞেস করলে সাহাবা উত্তরে বললেন, হে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সূরা ইখলাসে আল্লাহর পরিচয় বর্ণিত আছে এ কারণে এ সূরাকে আমি অনেক ভালবাসি। তাই আমি সব নামাজে এই সূরা পড়ি।

এই কথা শুনে আল্লাহ রাসুল (সাঃ) কিছু বলার আগেই আল্লাহ বলে পাঠালেন যে শুধু তার সূরা ইখলাসের প্রতি এই ভালবাসাই তার জন্য জান্নাত নিশ্চত করে দিয়েছে।

যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে শেয়ার করে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিন। সমসাময়িক যে কোন তথ্য ও আপডেট জানতে ফলো করুন আমাদের ফেসবুক পেইজ এবং জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপে

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments